মাদ্রাসা ছাত্র ছানী হত্যা বিচারের দাবীতে ভোলার বোরহানউদ্দিনে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। রবিবার (৫ অক্টোবর) সকল ১১ টায় একটি বিক্ষোভ মিছিল পৌর বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সমূহ প্রদক্ষিণ করে থানার সামনে গিয়ে মানববন্ধন করেন তারা। নিহত জাহিদুল ইসলাম ছানি উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের দিনমজুর মোঃ আকবর হেসেনের ছেলে ও পৌর ১নং ওয়ার্ডের আল হেরা ইসলামিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র।
মানববন্ধনে বক্তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, এর মধ্যে যদি প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় না আনা হয় তাহলে এর পর তারা আরো কঠোর আন্দোলনের দিকে যাবেন।
ছানীর বাবা আকবর এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর তার ছেলে ও তার এক বন্ধু তানভীর পৌর ১নং ওয়ার্ডের তার ভাড়া বাসার পাশে খেলা করার সময় একই ওয়ার্ডে ফকরুল ইসলাম নামক ব্যক্তি তার ছেলে ও ছেলের বন্ধুকে সুপারী পাড়তে গাছে উঠায়। এসময় গাছ থেকে পড়ে ছানি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে ওই ব্যক্তি ছানিকে নির্জন বাড়ির মধ্যে নিয়ে গিয়ে কিছুক্ষণ পর ড্রেনের উপর ফেলে চলে যায়। অনেক খোঁজা-খোজির পর বেলা ২টার দিকে ছেলের বন্ধু তানভীরের দেয়া তথ্য অনুযাযী সুপারী গাছের পাশে ড্রেনের মধ্যে থেকে ছানির লাশ উদ্ধার করেন তারা।
পরে ছানির পরিবারে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা আইন আদালত না করে লাশ দাফনের জন্য তাদের গামের বাড়ি গঙ্গাপুরে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে থানা পুলিশ তাদের কাছ থেকে ছানির লাশ থানায় এনে ভোলা মর্গে পাঠায়। পরবর্তীতে বন্ধু তানভীরের কথা অনুযায়ী দোষী সনাক্ত করে থানায় মামলা করতে গেলে ছানীর লাশের তদন্তকারী এস আই জসিম-১ তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে ও গালিগালাজ করে থানা থেকে বের করে দেন। পরে তারা ব্যাপারটি ওসি সাহেবকে জানালে তিনি মামলা নেয়ার কথা বললেও এখন পর্যন্ত মামলা নেননি। এ ব্যাপারে তারা প্রধান উপদেষ্টা ও স্ব-রাষ্ট্র উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানতে চাইলে বোরহানউদ্দিন থানার ওসি ছিদ্দিকুর রহমান জানান, আমি আগেও বলেছি থানায় মামলা নেবো, এখনো বলি মামলা নেবো। তারপরও কেন তারা মানববন্ধন ও সংবাবাদ সম্মেলন করেছেন, আমি বুঝতে পারছি না।