ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম শায়েখে চরমোনাই বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন আগেও ছিল, আওয়ামী লীগ সরকার জোরপূর্বকভাবে এটাকে বাতিল করেছে। আজকে সেই বাতিলকৃত রায় পুনর্বহাল হয়েছে। এটা অবশ্যই জনগণের জন্য কল্যাণকর হবে ও ভবিষ্যৎ ভালো হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার চর সামাইয়া ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত গণসমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেন, আমরা আশা করি, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে যদি নির্বাচন হয়; তাহলে বিগত দিনে দলীয় সরকারের অধীনে যে নির্বাচন হয়েছে সেগুলো থেকে ভালো হবে। বিগত দিনে দলীয় সরকারের অধীনে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে তার চেয়ে তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনের নির্বাচনগুলো গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়েছে। কাজেই আমি মনে করি, এ আইন পুনর্বহালের মাধ্যমে জনগণ আশ্বস্ত হয়েছে ও খুশি হয়েছে।
আগামী নির্বাচনে সকল ইসলামী দলগুলো একসঙ্গে নির্বাচন করার কথা জানিয়ে চরমোনাই পীর বলেন, নির্বাচনে ইসলামী দলগুলো একটি বাক্স দেওয়ার চেষ্টা করবো। আমরা জোট করবো না, তবে যেখানে ইসলামের পক্ষে একটা বাক্স থাকবে অন্য দলের বাক্স থাকবে না বলে আমরা এখনো আশাবাদী। আশা করি, আগামী নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে একটা বাক্স থাকবে।
শেখ হাসিনার বিচার নিয়ে মুফতি ফয়জুল করিম বলেন, আদালতের বিচারক আইনের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করেছেন। পরবর্তী বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের দায়িত্ব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। আশা করি, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা প্রদান করবে এবং সক্ষম হবে।
গণসমাবেশে ফয়জুল করিম বলেন, নৌকাকে বার বার দেখেছেন, ধানের শীষকে বার বার দেখেছেন, লাঙ্গলকে দেখেছেন, কিন্তু ইসলামকে দেখেন নাই। ওদের সব কিছুর মধ্যে ধোঁকা। ওদেরকে বার বার পরীক্ষা করেছেন, আমি অনুরোধ করবো- শুধু একটা বারের জন্য ইসলামকে পরীক্ষা করুন, যদি ইসলাম ফেল করে তাহলে দ্বিতীয়বার আপনাদের কাছে ভোট নেওয়ার জন্য আসবো না। আর ইসলাম দুনিয়াতে ফেল করার জন্য আসে নাই, পাশ করার জন্য আসছে।
ইসলামী আন্দোলন চরসামাইয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মুহা. ইলিয়াছ মহরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ভোলা-১ আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মুহা. ওবায়েদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা আতাউর রহমান, সেক্রেটারি মাওলানা তরিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।