স্টাফ রিপোর্টার॥
আজ ৫ আগস্ট মঙ্গলবার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে ২০২৪ সালের এই দিনে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। গণঅভ্যুত্থানের ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। যা পরবর্তীতে ৩৬ জুলাই নামে পরিচিতি পায়। এর তিনদিন পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে জুলাই মাসজুড়ে আন্দোলন হয়। ছাত্র-জনতার এ অভ্যুত্থানকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বলা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ সাধারণ ছুটি।
এদিকে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ‘স্বৈরাচারী অপশাসন’ অবসানের বর্ষপূর্তি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে পৃথক পৃথক বানী জিানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
জুলাই অভ্যুত্থান দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনতার বিস্ফোরণ: রাষ্ট্রপতি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুঃশাসন, গুম, খুন ও ভোটাধিকার হরণসহ সবধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ বলে অভিহিত করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহতদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন তিনি। ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে সোমবার (৪ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। ঐতিহাসিক এই অর্জনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমি দেশের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
তিনি বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদকে, যারা দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করতে গিয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। এই গণ-অভ্যুত্থানে আহত, পঙ্গুত্ব বরণ করা ও দৃষ্টিশক্তি হারানো সকল বীর জুলাই যোদ্ধার ত্যাগ ও অবদানকে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহতদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, গুম, খুন, অপহরণ, ভোটাধিকার হরণসহ সব ধরণের অত্যাচার, নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও আপামর জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ। এই বৈষম্যমূলক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সুনিশ্চিত করাই ছিল জুলাই অভ্যুথানের মূল লক্ষ্য।