
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসূমে ভোলার নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনব্যাপী সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় উপকূলীয় এলাকা ও নদ-নদীতে কোস্টগার্ডের টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের সমুদ্র, উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জাটকা নিধন প্রতিরোধ, মা ইলিশ সংরক্ষণ ও মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি দেখা গেছে, আর্টিসানাল ট্রলিং বোটের মাধ্যমে মাছ ধরার কারণে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, মাছের প্রজনন ব্যাহত ও ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এই অনিয়ম প্রতিরোধে কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে অবৈধ ট্রলিং বোটের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ফলে সমুদ্র ও নদীতে মাছের প্রাচুর্যতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন উপকূলীয় অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হচ্ছে।
কোস্টগার্ড আরও জানায়, জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌবাহিনী, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। সার্বিক বিষয় তুলে ধরে বুধবার সকাল ১১টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার ভোলার খাল এলাকায় ব্রিফিং করেন কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেফট্যানেন্ট মোহাম্মদ মোস্তাকিম সিদ্দিকী।