
রোববার (১৭ আগষ্ট) বিকেল ৫ টা থেকে হঠাৎ উত্তাল হয়ে পড়েছে সমূদ্র উপকুলীয় জেলা ভোলার নদনদী। নদনদী উত্তাল থাকায় জেলার আভ্যন্তরীণ ২০ রুটের নৌ-চলাচল বন্ধ রেখেছে বিআইডব্লিউটি এ। ফলে এখানকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় ভোলায় প্রায় ০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন,ভোলা আবহাওয়া অধিপ্তরের পর্যবেক্ষক মো: মনিরুজ্জামান।
জেলায় টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় ২০ নৌ-রুটে লঞ্চ ও সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় এখানকার যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারন করেছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়া ও বিরামহীন বৃষ্টিপাতের ফলে বিপাকে পড়েছে কর্মজীবী মানুষ। জেলার ইলিশা টু লক্ষ্মীপুর,মনপুরা টু ঢাকা,চরফ্যাশন টু ঢাকা'সহ জেলার অভ্যন্তরীণ ২০টি নৌ-রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও সরকারী সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। লঞ্চ ও সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। আভ্যন্তরীন বন্ধ নৌরুটগুলো হচ্ছে-ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর,ইলিশা-মেহেন্দিগঞ্জ, ভোলা-বাউফল,লালমোহন-নাজিরপুর, দৌলতখান-আলেকঝান্ডার,তজুমদ্দিন-মনপুরা, মনপুরা-হাতিয়া,চরফ্যাশন-মনপুরা, চরফ্যাশন-ঢাকা, মনপুরা-ঢাকা, চরফ্যাশনের ঘোষের হাট-ঢাকা, বোরহানউদ্দিনের হাকিমউদ্দিন-ঢাকা,ভোলার ভেদুরিয়াঘাট-বরিশালের লাহার হাট, চরফ্যাশনের কচ্ছপিয়া-ঢালচর,চরফ্যাশনের কচ্ছিয়া-কুকরী-মুকরী, চরফ্যাশনের কচ্ছিয়া-চর পাতিলা,চরফ্যাশনের আবুবকরপুর-দশমিনা,ভোলা সদরের তুলাতুলি-মাঝের চর, ভোলা সদরের ইলিশা-রামদাসপুর এবং ভোলা সদরের নাছির মাঝি-দৌলতখানের চর মদনপুর ইউনিয়ন।
তবে ভোলা-বরিশাল ও ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি বুঝে কিছু ফেরি চলাচল করছে বলে জানান,বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইনচার্জ মো: পারভেজ ।
তিনি জানান,এ রুটে লঞ্চ ও সি- ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় জীবিকার তাকিদে ফেরিতে কিছু যাত্রী পারাপার করছে। বিআইডব্লিউটিএর ভোলার বন্দর কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন জানান, নৌ-যান চলতে হলে নদীপথ এখনো নদীপথ স্বাভাবিক হতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া না কাটতে কোনোপ্রকার লঞ্চ চলাচল করতে দেয়া হবেনা বলেও জানান এ বন্দর কর্মকর্তা। ভোলার লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ মেসার্স ব্রাদার্স নেভিগেশন কোম্পানির ম্যানেজার মো: আলাউদ্দিন জানান, নদী উত্তাল থাকায় ডেঞ্জার জোনে তাদের কর্ণফুলী সিরিজের লঞ্চগুলো হাতিয়া,মনপুরা,চরফ্যাশন ও হাকিমুদ্দিন ঘাট থেকে ঢাকা রুটে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে অতি জোয়ারের ফলে জেলার মনপুরার কলাতলী,সাকুচিয়া,রামনেওয়াজ,
চরফ্যাসনের ঢালচর,কুকুরী-মুকুরী,চরপাতিলা ও লালমোহন উপজেলার চর কচুয়া ও বিচ্ছিন্ন কয়েকটি নিম্নাঞ্চলের লোকালয় ডুবে গেছে।
তাছাড়া নদী উত্তাল প্রবল স্রোতের তোড়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে, জেলা সদর ভোলার মেঘনা মধ্যবর্তী শতবছরের জেগে উঠা চর জনপদ মাঝের চর, রামদাসপুর,রামদেবপুর,বড়াইপুর ও চর কাচিয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ। ভোলার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে এসব চরাঞ্চলে ভাঙ্গরোধে সরকারের কোনো বরাদ্দ না থাকায় ভাঙ্গন কবলিত জনপদগুলো রক্ষা করা যাচ্ছেনা। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।