• শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • |
  • English Version
  • |
শিরোনাম:
সিংড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রানা, সম্পাদক জাফর নরসিংদী প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সভাপতি মাখন দাস, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক পলাশ বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মতো খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নেই : ফখরুল জানুয়ারির শুরুতেই শিক্ষার্থীদের কাছে সব বই পৌঁছে যাবে : ভোলায় গণশিক্ষা উপদেষ্টা আগামী ৩-৪ কার্যদিবসের মধ্যে গণভোট আইন করা হবে আগামী নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর পক্ষে একটা বাক্স থাকবে বলে আমি আসাবাদী: ভোলায় ফয়জুল করিম শায়েখে চরমোনাই মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ৩ বিচারককে হুমকিদাতা ভোলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশকে বিজনেস ভিসা দেওয়া শুরু করেছে ভারত : প্রণয় ভার্মা আজ বিশ্ব পুরুষ দিবস ভোলার গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভা করলেন নবাগত জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান
Notice :
আমাদের ওয়েবসাইটে কাজ চলমান রয়েছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই নতুন রূপে সাইটটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। আপনাদের অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক আচরণ বিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন

নিউজ ডেস্ক / ৪৪ সময় দেখুন
আপডেট : রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫
ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা কী করতে পারবেন এবং কী করতে পারবেন না— তা এতদিন নির্ধারিত ছিল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও বিভিন্ন পরিপত্রের মাধ্যমে। তবে এসব নির্দেশনা সবসময় স্পষ্ট না হওয়ায় অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সীমা অতিক্রম করে পক্ষপাতমূলক আচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। এসব বিবেচনায় নিয়ে এবার প্রথমবারের মতো রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক আচরণবিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, এতদিন রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আচরণ নির্ধারিত থাকলেও তা ছিল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ও অস্পষ্ট। ফলে অনেকে আইন সম্পর্কে অনভিজ্ঞ থেকে সিদ্ধান্ত নেন, যা মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। আবার কেউ কেউ আইনি পরামর্শ নিতে গিয়ে সিদ্ধান্তে দেরি করেন। এসব কারণেই স্পষ্ট ও আলাদা আচরণবিধি এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

ইসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে মূল ভূমিকা রেখেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। মাঠপর্যায়ে তাদের হাতে ছিল প্রায় সব ক্ষমতা। ফলে অনিয়ম হলেও কমিশনের কিছু করার থাকত না। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ন্যায়পরায়ণতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জন্য আচরণবিধি অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “আলাদা আচরণবিধি থাকলে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব ও সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। এতে তাদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে। পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

এ বিষয়ে একজন নির্বাচন কমিশনার জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক আচরণবিধি প্রণয়নের বিষয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের একটি প্রস্তাব রয়েছে, যা নিয়ে ইসি আলোচনা করছে। তিনি বলেন, “যদি আলাদা আচরণবিধি করা যায়, তাহলে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য ইতিবাচক হবে। তবে আরপিও সংশোধন শেষে হাতে কতটা সময় পাওয়া যায়, তার ওপর নির্ভর করবে আচরণবিধি প্রণয়ন।”

তিনি আরও জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেটিও আলোচনায় রয়েছে। অনেক রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট মহল ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনেরও একই সুপারিশ রয়েছে। কমিশন এখন তা প্রশাসনিকভাবে কতটা সম্ভব, তা খতিয়ে দেখছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মো. আবদুল আলীম বলেন, “এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ আরপিও তো আইন, কিন্তু তার সঠিক প্রয়োগে আচরণবিধি দরকার। এটি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বাড়াবে— তারা জানবেন কী করতে পারবেন, কী করতে পারবেন না। এতে নির্বাচনী পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল হবে।”

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের জন্য ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুজন ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার এবং ৬৪ জন জেলা প্রশাসক। এছাড়া ৫৯২ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন, যাদের মধ্যে ৪৯৫ জনই ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, কাস্টমস, ভূমি ও নির্বাচন অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও দায়িত্বে ছিলেন। এবারও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সহায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

তথ্য সূত্র : ভোরের দর্পন


এই বিভাগের আরও খবর