• শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
  • |
  • English Version
  • |
শিরোনাম:
সিংড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রানা, সম্পাদক জাফর নরসিংদী প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সভাপতি মাখন দাস, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক পলাশ বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মতো খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নেই : ফখরুল জানুয়ারির শুরুতেই শিক্ষার্থীদের কাছে সব বই পৌঁছে যাবে : ভোলায় গণশিক্ষা উপদেষ্টা আগামী ৩-৪ কার্যদিবসের মধ্যে গণভোট আইন করা হবে আগামী নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর পক্ষে একটা বাক্স থাকবে বলে আমি আসাবাদী: ভোলায় ফয়জুল করিম শায়েখে চরমোনাই মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ৩ বিচারককে হুমকিদাতা ভোলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশকে বিজনেস ভিসা দেওয়া শুরু করেছে ভারত : প্রণয় ভার্মা আজ বিশ্ব পুরুষ দিবস ভোলার গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভা করলেন নবাগত জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান
Notice :
আমাদের ওয়েবসাইটে কাজ চলমান রয়েছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই নতুন রূপে সাইটটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। আপনাদের অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

৩-৪ দিনের মধ্যেই ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হবে: আইন উপদেষ্টা 

নিউজ ডেস্ক / ৩৬ সময় দেখুন
আপডেট : মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫
ছবি সংগৃহীত

আগামী তিন-চার দিনের মধ্যেই ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত পরিষ্কারভাবে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘আশা করি, সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত সব রাজনৈতিক দল মেনে নেবে।’ 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আইন সহায়তা প্রদান অধ্যাদেশ সংশোধন বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন 

আইন উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে আমাদের একটা ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা দেবেন, এ ধরনের প্রত্যাশা আমরা করেছিলাম। কিন্তু প্রত্যাশা করেই আমরা বসে থাকিনি। আমরা নিজেদের মতো কাজ করেছি। সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, তা আগামী তিন-চার দিনের মধ্যেই পরিষ্কারভাবে জানতে পারবেন।

তিনি বলেন, আমরা উপদেষ্টা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ে এটা আলোচনা করছি। সব দলের প্রত্যাশার প্রতি সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের এবং জনগণের স্বার্থে যা করা দরকার সেটাই আমরা করতে যাচ্ছি।

এদিন মতবিনিময় সভায় জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তা প্রদান (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া উপস্থাপন করা হয়। বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ এবং জুলাই সনদে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থাকে অধিদফতরে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করার প্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সংস্থার কার্যপরিধি সম্প্রসারণ এবং আইনগত সহায়তা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সংস্থাটিকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কার্যাবলী, আইনগত সহায়তা উপদেষ্টা পরিষদ গঠন, মহানগর কমিটি গঠন, বেসরকারি সংস্থার কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ এবং মধ্যস্থতাকারীদের জন্য অ্যাক্রেডিটেশন সার্টিফিকেট প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সভায় উপস্থিত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সাবেক জেলা জজ মোতাহার হোসেন, ব্লাস্ট-এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল কনসালটেন্ট ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় আইনটির প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিভিন্ন দিক নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। 

দেশের সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্কের জবাবে মতবিনিময় সভায় আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘রাতারাতি সব সংস্কার শেষ করা সম্ভব নয়। বাস্তবে এত বড় ধরনের সংস্কার করা সহজসাধ্য নয়। ক্রমান্বয়ে সংস্কার করলে ভালো জায়গায় পৌঁছাতে পারব।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘সবাই মনে করেন সব সংস্কার এখনই করে ফেলতে হবে। বিষয়টা এত সহজ নয়। আমরা যখন অ্যাকটিভিজম করেছি তখন ভেবেছি কত সহজ, কিন্তু এখন বুঝতে পারছি কত কঠিন।’ তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সব সংস্কার যেন সংবিধানে আটকে গেছে। অন্য কোনো সংস্কার কারো চোখেই পড়ে না।’ আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘সংবিধান কোনো ম্যাজিক নয়, যে লিখে দিলেই সমাধান হয়ে গেল। রাজনৈতিক সংস্কৃতি, জনগণের অভ্যাস বাদ না দিলে কোনো কিছু পরিবর্তন হবে না।’

সাংবিধানিক ব্যর্থতার একটি উদাহরণ দিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘সংবিধানে তো লেখা আছে রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। কখনো কি হয়েছে?’ 

বিচার বিভাগের সংস্কার প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা জানান, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের দেওয়া বেশির ভাগ প্রস্তাবই ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের দেওয়া ৭০-৮০ ভাগ সংস্কার প্রস্তাব ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হয়ে গেছে। অথচ অপপ্রচার করে বলা হয় কোথায় সংস্কার, কোথায় সংস্কার?’ ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারের কাছে সংস্কারগুলো শক্তভাবে ধরে রাখার অনুরোধ জানান আইন উপদেষ্টা।  তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা ভীতি কাজ করে যে নির্বাচিত সরকার আসবে তারা এটা ধরে রাখবে কি না।’ তিনি আগামীতে নতুন সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘যারা আসবেন তাদের কাছে অনুরোধ, সংস্কারগুলো ধরে রাখবেন। আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ।’ 

তথ্য সূত্র : ভোরের দর্পন


এই বিভাগের আরও খবর